স্বপ্নভূমি ডেস্ক : খুলনা ডুমুরিয়ার আঠারোমাইল এলাকায় যুবদল নেতা এস এম শামীম হোসেনকে পারিবারিক কলহের জেরে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি (৩০) ও কিশোর শ্যালক ইমন হোসেন বাদল (১৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফাতেমা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি শামীম কয়েক দিন আগে স্ত্রীর কাছে রেখেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর ছুরিটি বাড়ির পাশের জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়, পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে।
সোমবার বিকেলে পুলিশ ও র্যাব-৬–এর যৌথ দল শামীমের স্ত্রী ও শ্যালককে তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
জবানবন্দিতে ফাতেমা আক্তার জানান, শামীম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও বেকার ছিলেন। আগে তাঁর যে গ্যারেজ ছিল, সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। শামীম স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ কারণে ফাতেমা শামীমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তার ফুফাতো ভাইকে সহযোগিতার জন্য ডেকে আনেন। ঘটনার রাতে শামীম তিনতলায় বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন, ওই সময় ফাতেমা পাশেই ছিলেন। তিনি ভাইকে ফোন করে ডেকে এনে বড় ছুরি দিয়ে শামীমকে কোপ মেরেছেন।
পুলিশ নিহতের বাড়ির পাশের জলাশয় থেকে ছুরি উদ্ধার করেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শামীম হোসেন নিজের বাড়ির তিনতলায় গলা কেটে খুন হন। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। নিহতের মা রশিদা বেগম অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পেছনের মাদকাসক্তি, পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।